সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত সহিহ হাদিস ও আমল

  ভূমিকা পবিত্র কোরআনের গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ আয়াতগুলোর মধ্যে আয়াতুল কুরসি অন্যতম। এটি সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। এই আয়াতে আল্লাহ তাআলার একত্ব, অসীম ক্ষমতা, জ্ঞান, মহত্ত্ব এবং আসমান-জমিনের ওপর তাঁর পূর্ণ কর্তৃত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। অনেক মুসলমান প্রতিদিন ফরজ নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়েন। কিন্তু আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত সহিহ হাদিসে কীভাবে বর্ণিত হয়েছে , কখন এটি পড়া উত্তম এবং এর সঙ্গে কোন আমলগুলো সম্পর্কিত—এসব বিষয় জানা জরুরি। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আয়াতুল কুরসির বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা রয়েছে। সহিহ বুখারিতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত এবং সহিহ মুসলিমে এটিকে কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আর্টিকেলে কোরআন ও হাদিসের নির্ভরযোগ্য সূত্রের আলোকে আয়াতুল কুরসির ফজিলত, পড়ার সময়, অর্থ এবং এ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।  আরো পড়ুন  শবে বরাতের নামাজ পড়ার নিয়ম ও দোয়া আয়াতুল কুরসি কী? আয়াতুল কুরসি হলো পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্ব...

আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত সহিহ হাদিস ও আমল

 

ভূমিকা

পবিত্র কোরআনের গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ আয়াতগুলোর মধ্যে আয়াতুল কুরসি অন্যতম। এটি সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। এই আয়াতে আল্লাহ তাআলার একত্ব, অসীম ক্ষমতা, জ্ঞান, মহত্ত্ব এবং আসমান-জমিনের ওপর তাঁর পূর্ণ কর্তৃত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

অনেক মুসলমান প্রতিদিন ফরজ নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়েন। কিন্তু আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত সহিহ হাদিসে কীভাবে বর্ণিত হয়েছে, কখন এটি পড়া উত্তম এবং এর সঙ্গে কোন আমলগুলো সম্পর্কিত—এসব বিষয় জানা জরুরি।

সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আয়াতুল কুরসির বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা রয়েছে। সহিহ বুখারিতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত এবং সহিহ মুসলিমে এটিকে কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আর্টিকেলে কোরআন ও হাদিসের নির্ভরযোগ্য সূত্রের আলোকে আয়াতুল কুরসির ফজিলত, পড়ার সময়, অর্থ এবং এ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো। আরো পড়ুন শবে বরাতের নামাজ পড়ার নিয়ম ও দোয়া

আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত সহিহ হাদিস ও আমল


আয়াতুল কুরসি কী?

আয়াতুল কুরসি হলো পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। আরবি ‘আয়াত’ শব্দের অর্থ নিদর্শন বা বাক্যাংশ, আর ‘কুরসি’ শব্দটি এই আয়াতের একটি বিশেষ শব্দ। এ কারণেই আয়াতটি আয়াতুল কুরসি নামে পরিচিত।

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা জানিয়েছেন, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব এবং সবকিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা বা ঘুম স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনের সবকিছু তাঁরই। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারে না। তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং আসমান-জমিনের সংরক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না।

রেফারেন্স: সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৫৫। কোরআনের আরবি পাঠ ও অনুবাদ এখানে দেখুন।

আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত সহিহ হাদিসের আলোকে

১. আয়াতুল কুরসি কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত

আয়াতুল কুরসির অন্যতম বড় ফজিলত হলো, রাসুলুল্লাহ ﷺ এটিকে কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি তাঁর কাছে সবচেয়ে মহান। উবাই ইবনে কাব (রা.) আয়াতুল কুরসির কথা উল্লেখ করলে নবী ﷺ তাঁর উত্তরের প্রশংসা করেন।

এই বর্ণনাটি সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮১০-এ রয়েছে।

এ থেকে বোঝা যায়, আয়াতুল কুরসির বিষয়বস্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে আল্লাহর একত্ব, চিরঞ্জীব হওয়া, সর্বময় ক্ষমতা এবং অসীম জ্ঞানের পরিচয় রয়েছে। তাই আয়াতটি শুধু পড়াই নয়, এর অর্থ বোঝা ও বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো উপলব্ধি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম ৮১০।

২. রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত

আয়াতুল কুরসি পড়ার একটি প্রসিদ্ধ ফজিলত হলো রাতে ঘুমানোর আগে এটি তিলাওয়াত করা।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, তিনি রমজানের জাকাতের খাদ্যসামগ্রী পাহারা দিচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি সেখান থেকে খাবার নিতে এলে তিনি তাকে ধরে ফেলেন। ওই ব্যক্তি তাঁকে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার পরামর্শ দেয়। সে জানায়, এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষাকারী নিযুক্ত থাকবেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান কাছে আসতে পারবে না।

পরে রাসুলুল্লাহ ﷺ আবু হুরায়রা (রা.)-কে জানান, লোকটি মিথ্যাবাদী হলেও এ কথাটি সত্য বলেছে; আর সেই ব্যক্তি ছিল শয়তান।

এই ঘটনা সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩১১-এ বর্ণিত হয়েছে।

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে এর অর্থ এই নয় যে, একজন মানুষ জীবনে কোনো বিপদ বা অসুস্থতার মুখোমুখি হবেন না। বরং হাদিসে বর্ণিত ফজিলতের প্রতি বিশ্বাস রেখে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে।

রেফারেন্স: সহিহ বুখারি ২৩১১।

৩. প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত

আয়াতুল কুরসি পড়ার আরেকটি পরিচিত আমল হলো প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর এটি তিলাওয়াত করা।

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না।

এই বর্ণনাটি সুনান আন-নাসাঈ আল-কুবরা, হাদিস ৯৮৪৮-এ এসেছে। মুহাদ্দিস ইবনে হিব্বান হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন; হাদিসটির গ্রহণযোগ্যতার পক্ষে আরও আলেমের মূল্যায়ন রয়েছে।

এই ফজিলত আমাদের ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে। নামাজ শেষ করে তাড়াহুড়ো করে উঠে যাওয়ার পরিবর্তে কিছু সময় জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের জন্য রাখা যেতে পারে।

রেফারেন্স: সুনান আন-নাসাঈ আল-কুবরা ৯৮৪৮-এর হাদিস।

৪. আয়াতুল কুরসি আল্লাহর একত্ব ও মহত্ত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়

আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহর এমন কিছু গুণ বর্ণনা করা হয়েছে, যা একজন মুসলমানের ঈমান ও বিশ্বাসকে দৃঢ় করতে সাহায্য করে।

এ আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহকে তন্দ্রা বা ঘুম স্পর্শ করে না। আসমান-জমিনে যা কিছু আছে, সবই তাঁর। তিনি সবকিছু জানেন এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারে না।

এ বিষয়গুলো মনে রাখলে একজন মানুষ বুঝতে পারেন যে, জীবনের সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা করা উচিত। দুঃসময়ে তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া, ভালো সময়ে কৃতজ্ঞ থাকা এবং সব অবস্থায় তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

আয়াতুল কুরসি কখন পড়বেন?

আয়াতুল কুরসি যেকোনো সময় কোরআন তিলাওয়াতের নিয়তে পড়া যায়। তবে সহিহ ও গ্রহণযোগ্য হাদিসে বিশেষভাবে যে সময়গুলোর কথা এসেছে, সেগুলো হলো:

১. রাতে ঘুমানোর আগে: সহিহ বুখারি ২৩১১-এর বর্ণনা অনুযায়ী, ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

২. প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর: আবু উমামা (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত রয়েছে।

৩. সাধারণ সময়ে কোরআন তিলাওয়াতের সময়: আয়াতুল কুরসি কোরআনের একটি আয়াত। তাই কোরআন তিলাওয়াতের সময়ও এটি পড়া যায়।

এখানে মনে রাখতে হবে, নির্দিষ্ট সময়ের বিশেষ ফজিলত উল্লেখ করা হয়েছে বলে অন্য সময়ে আয়াতটি পড়া যাবে না—এমন নয়।

আয়াতুল কুরসির বাংলা অর্থ

আয়াতুল কুরসির অর্থ বোঝার জন্য নিচে সহজ বাংলা অনুবাদ দেওয়া হলো। অনুবাদের শব্দচয়ন বিভিন্ন অনুবাদগ্রন্থে কিছুটা আলাদা হতে পারে।

“আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা বা ঘুম স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা আছে এবং জমিনে যা আছে, সবই তাঁর। কে আছে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন। আর তিনি যা চান, তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসি আসমানসমূহ ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে। এগুলোর সংরক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। আর তিনি সর্বোচ্চ, মহান।”

রেফারেন্স: সূরা আল-বাকারা, ২:২৫৫। মূল আয়াত ও অনুবাদ।

আয়াতুল কুরসি পড়ার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

১. শুদ্ধভাবে পড়ার চেষ্টা করুন: আরবি উচ্চারণ শুদ্ধ করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে শিখুন।

২. অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন: শুধু মুখস্থ পড়ার পাশাপাশি আয়াতের অর্থ ও শিক্ষা উপলব্ধি করুন।

৩. সহিহ হাদিসের ওপর গুরুত্ব দিন: কোনো আমলের ফজিলত প্রচার করার আগে তার সূত্র ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করুন।

৪. অতিরঞ্জিত দাবি এড়িয়ে চলুন: আয়াতুল কুরসি পড়লে কখনো অসুস্থতা, বিপদ বা দুঃখ আসবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া ঠিক নয়। হাদিসে যে ফজিলত এসেছে, তা সেইভাবেই বর্ণনা করা উচিত।

৫. নিয়মিত আমল করুন: রাতে ঘুমানোর আগে এবং ফরজ নামাজের পর পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

FAQ: আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন

১. আয়াতুল কুরসি কোরআনের কত নম্বর আয়াত?

আয়াতুল কুরসি সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। এটি কোরআনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আয়াত।

২. আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত কি সহিহ হাদিসে আছে?

হ্যাঁ। সহিহ মুসলিম ৮১০-এ আয়াতুল কুরসিকে কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত বলা হয়েছে। সহিহ বুখারি ২৩১১-এ ঘুমানোর আগে এটি পড়ার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

৩. ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়লে কী হয়?

সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়লে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে রক্ষাকারী থাকার এবং শয়তান কাছে না আসার ফজিলত রয়েছে।

৪. ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়া কি সুন্নত?

ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তাই এটি নিয়মিত পড়া উত্তম আমল।

৫. আয়াতুল কুরসি কতবার পড়তে হয়?

ঘুমানোর আগে বা ফরজ নামাজের পর পড়ার ক্ষেত্রে সহিহ বর্ণনায় নির্দিষ্টভাবে একবার পড়ার কথা বোঝা যায়। প্রতিটি ক্ষেত্রে ৭ বার, ১১ বার বা ১০০ বার পড়তেই হবে—এমন দাবি করার জন্য আলাদা নির্ভরযোগ্য দলিল প্রয়োজন।

৬. আয়াতুল কুরসি পড়লে কি সব বিপদ থেকে মুক্ত থাকা যায়?

আল্লাহর ওপর ভরসা ও তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়া একজন মুসলমানের কর্তব্য। তবে আয়াতুল কুরসি পড়লেই জীবনে কোনো বিপদ বা অসুস্থতা আসবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া ঠিক নয়।

৭. আয়াতুল কুরসি না পড়লে কি গুনাহ হবে?

ঘুমানোর আগে বা ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়া ফজিলতপূর্ণ আমল। কিন্তু এটি ফরজ নয়। না পড়লে ফরজ ইবাদত ত্যাগ করার মতো গুনাহ হবে—এমন কথা বলা যাবে না।

উপসংহার

আয়াতুল কুরসি পবিত্র কোরআনের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আয়াত। সহিহ মুসলিমে এটিকে কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সহিহ বুখারিতে রাতে ঘুমানোর আগে এটি পড়ার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া গ্রহণযোগ্য হাদিসে ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার গুরুত্বও এসেছে।

তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে এবং ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। শুধু পড়াই নয়, এর অর্থ বোঝা, আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস দৃঢ় করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর নির্দেশনা মেনে চলার চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের কোরআন শুদ্ধভাবে পড়ার, এর অর্থ বোঝার এবং সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

রেফারেন্স

১. আল-কোরআন, সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৫৫: আয়াতুল কুরসির মূল পাঠ ও অনুবাদ।
https://quran.com/2/255

২. সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮১০: আয়াতুল কুরসি কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত—এ বিষয়ে বর্ণনা।
https://sunnah.com/muslim/6/313

৩. সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩১১: ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত।
https://sunnah.com/bukhari:2311

৪. সুনান আন-নাসাঈ আল-কুবরা, হাদিস ৯৮৪৮: ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত।
https://hadeethenc.com/en/browse/hadith/10950

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ইসলামের সোনালী যুগের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আল-মাসউদীর জীবনী ও অবদান।

 ভূমিকা ইসলামের ইতিহাস শুধু যুদ্ধ, রাজা-বাদশাহ কিংবা খলিফাদের ইতিহাস নয়। মুসলিম সভ্যতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো—এই সভ্যতার মানুষ জ্ঞানকে অনেক বিস্তৃতভাবে দেখেছিলেন। ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি ইতিহাস, ভূগোল, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য, গণিত এবং বিভিন্ন দেশের সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়েও মুসলিম মনীষীরা গবেষণা করেছেন। ইসলামের সোনালী যুগে এমনই একজন অসাধারণ জ্ঞানী ছিলেন আল-মাসউদী (Al-Masudi) । তিনি একই সঙ্গে ছিলেন ইতিহাসবিদ, ভূগোলবিদ, ভ্রমণকারী এবং বহুমুখী জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী একজন লেখক। তাঁর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি শুধু অন্যের বই পড়ে ইতিহাস লিখতে চাননি; বরং নিজে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল ভ্রমণ করেছেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, বিভিন্ন জাতির জীবনযাপন দেখেছেন এবং সেসব অভিজ্ঞতাকে তাঁর লেখায় তুলে ধরেছেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Muruj al-Dhahab wa Ma'adin al-Jawhar , যার ইংরেজি অনুবাদ সাধারণত The Meadows of Gold and Mines of Gems নামে পরিচিত, মধ্যযুগের মুসলিম ইতিহাসচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এই বইয়ে শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস নয়, geography, culture, religion, society, natural world এব...

জান্নাতের মাটি কেমন হবে? কুরআন ও সহিহ হাদিসে যা বলা হয়েছে

ভূমিকা জান্নাত—মুমিনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। দুনিয়ার জীবনে মানুষ যত কষ্ট, দুঃখ, অভাব, অসুস্থতা, বিচ্ছেদ ও হতাশার মধ্য দিয়ে যায়, সবকিছুর পর আল্লাহর পক্ষ থেকে যে চিরস্থায়ী শান্তির প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেটিই জান্নাত। আমরা জানি, জান্নাতে থাকবে এমন সব নেয়ামত, যা দুনিয়ার কোনো কিছুর সঙ্গে পুরোপুরি তুলনা করা যায় না। সেখানে থাকবে সুন্দর বাগান, নদী, ফলমূল, প্রশান্তি, নিরাপত্তা, সুন্দর বাসস্থান এবং সবচেয়ে বড় কথা—আল্লাহর সন্তুষ্টি। কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে অনেকের কৌতূহল আছে— জান্নাতের মাটি কেমন হবে? জান্নাতের মাটি কি দুনিয়ার মাটির মতো? সেখানে কি ধুলাবালি থাকবে? মাটির রং কেমন হবে? জান্নাতের মাটি কি সাদা হবে, নাকি জাফরানের মতো হবে? সেটি কি কোনো সুগন্ধি ছড়াবে? জান্নাতের মাটি কি সাধারণ মাটির মতো পায়ের নিচে থাকবে, নাকি এর প্রকৃতিই হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন? ইসলামি সূত্রে এ বিষয়ে বেশ সুন্দর কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইবনু সাইয়্যাদকে জান্নাতের মাটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বলেছিল—এটি সাদা সূক্ষ্ম ময়দার মতো এবং মিশকের মতো সুগন্ধিযুক্ত। রাসুলু...

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাতি ও হযরত হুদ (আ.)-এর ঘটনা

ভূমিকা পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক জাতি এসেছে, যারা তাদের শক্তি, সম্পদ, উন্নত জীবনযাপন, বড় বড় স্থাপনা এবং প্রভাবের কারণে নিজেদের অজেয় মনে করত। তাদের মধ্যে ‘আদ জাতি ছিল অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী জাতি। কুরআনে তাদের শক্তি ও অহংকারের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি তারা নিজেদের সম্পর্কে বলেছিল— “আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে আছে?” এই একটি কথার মধ্যেই তাদের মানসিকতা অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায়। তারা শক্তিশালী ছিল, সম্পদশালী ছিল, নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে গর্ব করত। কিন্তু তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল তারা সেই শক্তির প্রকৃত মালিক আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল। এই ‘আদ জাতির কাছেই আল্লাহ পাঠিয়েছিলেন নবী হযরত হুদ (আ.) -কে। হুদ (আ.) তাদের নিজেরই সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। তিনি তাদের বলেছিলেন, তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না এবং অহংকার ছেড়ে দাও। কিন্তু শক্তি ও ক্ষমতার অহংকার তাদের সত্য গ্রহণ করতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত যে জাতি বলেছিল, “আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে?” , সেই জাতিই আল্লাহর পাঠানো ভয়ংকর বাতাসের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিল। কুরআনে ‘আদ জাতির ঘটনা একাধিক জায়গায় এসেছে। সূরা আল-আ‘রাফ, সূরা হু...